জরায়ুমুখ ক্যান্সারের ভয়, সচেতনতা ও ভ্যাকসিনে জয়
ভ্যাকসিন দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তটি চমৎকার হলেও শুরুতে অনেক মেয়ে এবং তাদের অভিভাবকদের মনে নানারকম ভয় ও ভ্রান্ত ধারণা (গুজব) ছিল। সুইয়ের ভয় থেকে শুরু করে ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে নানা দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। এই অমূলক ভয় দূর করে তাদের মুখে আত্মবিশ্বাসের হাসি ফোটানো এবং সঠিক বৈজ্ঞানিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াটাকে আমি একটি বড় সামাজিক দায়িত্ব এবং চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছিলাম।
প্রথমে এলাকার সকল স্কুল-মাদ্রাসার তালিকা ও ভ্যাকসিনের তথ্য সংগ্রহ করি। এরপর টানা ১৫ দিন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ছাত্রীদের কাউন্সেলিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে মনের ভয় দূর করি। টিকাদানের দিনগুলোতে বুথে উপস্থিত থেকে নিবন্ধন যাচাই, লাইনে দাঁড় করানো এবং নার্ভাস ছাত্রীদের সাহস জোগাই। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের ডেটা এন্ট্রিতে সহায়তা ও টিকা-পরবর্তী পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পুরো কার্যক্রমটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করি।
এই প্রকল্প থেকে আমি শিখেছি যে সঠিক তথ্য প্রচার এবং সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষের মন থেকে যেকোনো ভয় বা গুজব সহজেই দূর করা যায়। পুরো টিম ও স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে কাজ করতে গিয়ে আমার দলগত বোঝাপড়া, যোগাযোগ দক্ষতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়েছে। সর্বোপরি, কিশোরী মেয়েদের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় অবদান রাখতে পেরে আমার সামাজিক দায়িত্ববোধ আরও দৃঢ় হয়েছে এবং বুঝতে পেরেছি যে ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাও সমাজে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে